১০ টি হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন যা মানুষ এখনো সন্ধান করছে

১০ টি হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন যা মানুষ এখনো সন্ধান করছে

পৃথিবী একটা রহস্য আর গুপ্তধন সেই রহস্যের অন্যতম রহস্য। কালে কালে বহু মানুষ তাদের জীবনের পুরো সময়টাই অতিবাহিত করেছেন এই গুপ্তধনের খোঁজে। আসলে এটা একটা নেশার মত যখন কাউকে পেয়ে বসে আর কোন কিছুই ভালো লাগে না। আপনি জেনে অবাক হবেন আমাদের পৃথিবীতে অসংখ্য বাস্তবে হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন রয়েছে যা এখনো কেউ খুঁজে পান নি।যিনি পাবেন তিনি অবশ্যই রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাবেন। আজকের এই আয়োজনে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো বাস্তবে অস্তিত্ব রয়েছে আমন ১০ টি হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের কাহিনী।

১০. ফ্রান্সের স্বর্ণের পেঁচা

১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ম্যাক্স ভ্যালেন্টাইন ছদ্মনামের একজন ব্যক্তি একটা স্বর্ণের তৈরি পেঁচা ফ্রান্সের কোন গ্রামাঞ্চলে লুকিয়ে রেখেছেন এবং সেটা খুঁজে দিতে পারলে তখনকার সময়ে ১ মিলিয়ন ফরাসি মুদ্রা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেন। ভ্যালেন্টাইন স্বর্ণের তৈরি পেঁচাটির অবস্থান সম্পর্কে সর্বমোট ১১ টি সংকেত দিয়েছিলেন, কিন্তু আজও কেউ সেটি খুঁজে পায়নি। অনেক গুপ্তধন অনুসন্ধানকারী স্বর্ণের পেঁচাটি খোঁজার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। তবে তাদের পরিশ্রম পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। দুর্ভাগ্যবশত ২০০৯ সালে ভ্যালেন্টাইন মৃত্যুবরণ করেন। এবং স্বর্ণের প্যাঁচার রহস্য আজও রহস্যই থেকে গেছে।

৯. ৬৩ মিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বেডফোর্ড নামক স্থানের কোন এক জায়গায় ৬৩ মিলিয়ন ডলারের গুপ্তধন লুকায়িত রয়েছে। থমাস বেলি নামের একজন ব্যক্তি ১৮১৬ সালে তার কিছু সঙ্গীর সাথে রকি পর্বতমালা কোন একটা দিকে খননের সময় তারা বিশাল পরিমাণ এর স্বর্ণ এবং রুপা খুঁজে পান। থমাস এবং তার সঙ্গীরা চেয়েছিলেন তাদের মৃত্যুর পর যাতে সে সম্পত্তি, যার মূল্য বর্তমান বাজারে ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার,নিকটতম আত্মীয়রা ভোগ করতে পারেন।

থমাস তিনটি চিরকুট লেখেন। যার একটিতে গুপ্তধনের সঠিক অবস্থান, দ্বিতীয়টিতে গুপ্তধনগুলোর মধ্যে কি কি রয়েছে, এবং তৃতীয়টিতে যার যার নিকটতম আত্মীয় এর নাম লিখে দেয়া হয়। কিন্তু সেই চিরকুট গুলোর মধ্যে শুধুমাত্র একটি যেটাতে গুপ্তধন গুলোর মধ্যে কোন ধরনের মূল্যবান বস্তু রয়েছে সেটার সংকেতই বোঝা গেছে। বাকি দুটো চিরকুট এর সংকেত এখনো কেউ ভাঙতে পারেনি।

৮. অষ্টম আশ্চর্য

১৭১৬ সালে প্রুসিয়ান রাজা ফ্রেডরিক উইলিয়াম রাশিয়ার সিজারকে, পিটার দ্য গ্রেট, একটি আম্বানির তৈরি কক্ষ উপহারস্বরূপ প্রদান করেন। যে কক্ষটি এত বেশি সুন্দর ছিল যে অনেকে সেটাকে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য বলে অভিহিত করেন। এটার মূল্য সরাসরি নিরূপণ করা সম্ভব না। ১৯৪১ সালে এই আম্বার কক্ষটি জার্মানির সৈন্যরা চুরি করে নিয়ে যান। এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে তুই কক্ষে লাগানো মূল্যবান ধাতব চ্যানেলগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয় এগুলোকে চুরি করে কোথাও নিয়ে গোপন করা হয়েছে।

৭. কুইন শি হুয়াং এর সমাধি

কুইন শি হুয়াং হোসেন ঐক্যবদ্ধ চীনের প্রথম সম্রাট। একটা আধুনিক ও প্রসিদ্ধ চীন সাম্রাজ্য গঠন করতে তিনি এবং তার দেশের লোকজন মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছিলেন। যেহেতু তিনি চীনের ইতিহাসের সবচাইতে সম্মানী নেতা, তার মৃত্যুর পর তাকে বিশাল ভূগর্ভস্থ শহরে সমাহিত করা হয়েছিল যেখানে তার পাহারার জন্য হাজার হাজার পোড়ামাটির নির্মিত পরিপূর্ণ আকৃতির সৈন্যদের মূর্তি দিয়ে তার সমাধি ঘিরে রাখা হয়েছিল।

১৯৭৪ সালের আগ পর্যন্ত বিষয়টা অনাবিষ্কৃত ছিল। কিন্তু খননকার্য চালালেও এত বিশাল ভূগর্ভস্থ শহরের তলা পর্যন্ত পৌঁছানো যথেষ্ট কষ্ট সাধ্য। এমনকি জীবনে হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে ভূ-গর্বস্থ শহরটির চারপাশে বিষাক্ত মার্কারির নদী রয়েছে। কিন্তু এটা অবশ্যই ধারণা করা যায় যে, কুইন শি হুয়াং এর সমাধির সাথে বিপুল পরিমাণ গুপ্তধন সেখানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল যার হদিশ এখনো কেউ পাননি।

৬. লিয়ন ট্র্যাবুকোর স্বর্ণ

১৯৩০ সালে আগ মুহূর্তে মেক্সিকোর ধনকুবের লিওন নিউ মেক্সিকোর মরুভূমি অঞ্চলে বেশ কিছু গোপন এবং রহস্যজনক যাতায়াত সম্পন্ন করেছিলেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র বিশাল অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল যেহেতু ডলারের মূল্য একদমই কমে যাচ্ছিল যার জন্য লিয়ন ভেবেছিলো স্বর্ণের দাম ব্যাপক পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। এই আশায় লিওন এবং তার আরো কিছু ব্যবসায়িক সঙ্গে মিলে ১৬ টন স্বর্ণ গোপনে নিয়ে আসে। এবং অপেক্ষার প্রহর গুনছিল যে কখন স্বর্ণের দাম বাড়বে এবং তারা সেগুলো আমেরিকার বাজারে বিক্রি করবে।

দ্রুত সেই স্বর্ণগুলো বিক্রি না করে তারা আরো দাম বাড়ার অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আমেরিকার সরকার স্বর্ণ সংক্রান্ত একটা আইন পাস করেন যেখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন স্বর্ণকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে লিওন এবং তার সঙ্গীরা উভয় সংকটে পড়েন। এই ঘটনার বেশ কিছু মাস পরে, লিওন ও তার তিন সঙ্গীর মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। এবং তাদের সাথে সাথে সেই স্বর্ণের রহস্য ইতিহাসে হারিয়ে যায়। এখনো কেউ খুঁজে পাননি যে আসলে কোথায় তারা স্বর্ণ গুলোকে লুকিয়ে ছিল।

৫. ফ্যানের গুপ্তধন

১৯৮৮ সালে ফরেস্ট ফ্যানের ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন তার মাথায় একটা আইডি আসে। আর সেটা হলো তিনি একটা ব্রঞ্জের সিন্দুক তৈরি করবেন যেটাতে প্রচুর গুপ্তধন থাকবে এবং যে কেউই চাইলে সেটা খুঁজে নিজের করে নিতে পারবে। তিনি সে সিন্দুকটা স্বর্ণের কয়েন, অতি দুর্লভ কয়েন, জুয়েলারি এবং মূল্যবান রত্ন পাথর দিয়ে পরিপূর্ণ করেন, যার সাথে ফ্যান এর আত্মজীবনী লেখা একটি জগ ছিল। তিনি জঙ্গলে মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন যেখানে তিনি এই গুপ্তধন লুকিয়ে যাবেন। যাই হোক তিনি তার অসুস্থতা অনেকটা বেঁচে গিয়েছিলেন।

তিনি গুপ্তধন লুকানোর জন্য তার তার বয়স ৭৯ বা ৮০ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন। যাইহোক ২০১০ সালে পত্রিকায় তার একটি স্মৃতিকথামূলক কবিতা প্রকাশ করা হয় যে কবিতায় তিনি এই গোপন গুপ্তধনের অবস্থান সম্পর্কে সংকেত দিয়েছিলেন। যদিও সবগুলো সংকেত এখনো সঠিকভাবে ভাঙ্গা যায়নি। কিন্তু ফ্যান বলেছেন, প্রধন রকি পর্বতমালার উত্তর দিকে কোন একটা সান্তা ফে নামক জায়গায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০০০ ফিট উপরে লুকায়িত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ সেটি খুঁজে পায়নি।

৪. স্বর্ণের ডিম

১৮৮৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার বিভিন্ন রাজ পরিবার তাদের জন্য মোট ৫২ টি স্বর্ণের ডিম তৈরি করেন। তবে ১৯১৭ সালে রাজা নিকোলাস (২) ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য কে হত্যা করা হয়। সেই সময় নিরাপত্তার খাতিরে ঐ স্বর্ণের ডিম গুলোকে একটি গোপন ভল্টে রাখা হয়। তবে পরে জানা যায় যে, ৫২ টি ডিমের মধ্যে ৮ টি ডিম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যার বাজার মূল্য বর্তমানে প্রায় ৯০-১৫০,০০০,০০০ ডলার (১১৭৪ কোটি টাকা)। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সেগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় নি।

৩. কি ওয়েস্ট’ এ হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধন

কি ওয়েস্ট’ আমেরিকার ফ্লোরিডায় অবস্থিত একটি দ্বীপে অবস্থিত শহর। ১৬২২ সালে বেশ কিছু স্প্যানিশ জাহাজ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের (৫৪৮২ কোটি টাকা) সমপরিমাণ সম্পদ নিয়ে স্পেনের পথে রওনা দেয়। কিন্তু ‘কি ওয়েস্ট’ উপকূলের কাছে এসে জাহাজ গুলো একটি ভয়ানক হারিকেনের মখোমুখি হয়।সেখানে প্রায় সবগুলো জাহাজই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। ১৯৮৫ সালের দিকে এক গুপ্তধন অনুসন্ধানী ব্যক্তি ‘মেল ফিসার’, ‘কি ওয়েস্ট’ উপকূলের প্রায় ১৬০ কিমি দূরে, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ সম্পদ এর হদিস পান। কিন্তু ওই জাহাজ গুলোর দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া নাবিকদের কথা অনুযায়ী আরো প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার এর সম্পদ এখনো নিখোঁজ। যার মধ্যে প্রায় ১৭ টন রুপার বার, ১,২৮,০০০ মুদ্রা (বিভিন্ন ধরনের), ২৭ কেজি পান্না/এমারেল্ড এবং ৩৫ টি স্বর্ণের বাক্স এখনো নিখোঁজ।

২. ফ্লোর দো মা জাহাজের গুপ্তধন

‘ফ্লোর দো মা’ বা ‘সমুদ্রের ফুল’ নামের এই জাহাজটি ছিল প্রায় ৪০০ টন ওজনের একটি পর্তুগীজ জাহাজ। এই জাহাজটি তৈরি করা হয়েছিল ১৫০২ সালের দিকে। এই জাহাজটি তখন বিভিন্ন যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল। তেমনি একটি যুদ্ধে জয়ের পর জাহাজের ক্যাপ্টেন ‘আলফনসো ডি আল বুকার্ক’ তার জাহাজের কর্মীদের সাহায্যে প্রায় ২.৬ বিলিয়ন ডলারের (২০,৩৬০ কোটি টাকা) সম্পদ জাহাজে ভর্তি করেন। তার সাথে যুদ্ধে পরাজিত রাজা তাকে আরো প্রায় ৫৪,৪৩১ কেজি স্বর্ণ উপঢৌকণ হিসেবে দেন।

বর্তমানে প্রতি কেজি স্বর্ণ এর মূল্য প্রায় ৫০,০০০ ডলার এর কাছাকাছি।এসব নিয়ে জাহাজের ক্যাপ্টেন পর্তুগালের অভিমুখে রওনা হন, সাথে ছিল আরো ৪ টি জাহাজ। কিন্তু পথেই ভয়ংকর সামুদ্রিক ঝড়ের মুখে পতিত হন তারা। ১৫১১ সালের ২০ নভেম্বর, জাহাজটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কোন এক স্থানে ধংস হয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন প্রাণে বেঁচে যান। তবে সেই অঢেল পরিমাণ সম্পদ আজও খুঁজে পাওয়া যায় নি।

১. কপার স্ক্রল বা তামার পাত

১৯৪৬ সালে জর্দান ও ইসরাইলের মাঝামাঝি জায়গায় ডেড সি বা মৃত সাগরের উত্তর তীর ঘেষে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এর খোঁজ পাওয়া যায়। যেখানে ১১ টি গুহা পাওয়া যায়। এবং সে গুহা গুলোর ৩ নম্বরটিতে দুটি কপারের তৈরি স্ক্রল পাওয়া যায়। পরে বুঝা যায় যে, এই কপারের স্ক্রল গুলোতে আসলে পৃথিবীর ৬৪ টি স্থানের কথা বলা রয়েছে, যে স্থান গুলোয় লুকিয়ে রাখা হয়েছে মোট প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও (প্রায় ৯৩৯৭ কোটি টাকা) বেশি সম্পদ। তবে যা এখনো কেউই খুঁজে পায় নি।

গুপ্তধন নিয়ে লেখা এই নিবন্ধটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত কমেন্ট এ জানাতে ভুলবেন না। আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ… আমাদের সাথে থাকুন ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Copyright By banglarchokh24        
Design BY NewsTheme